২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় অ্যাটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। মরক্কো বলের দখল, শট এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন পরপর দুটি অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কো আক্রমণ অব্যাহত রাখে। তবে ৭২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ক্রিসেনসিও সামারভিলের নিচু ক্রসে দারুণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জালে বল পাঠান কোডি গাকপো।
এই গোলটি গাকপোর জন্য ছিল আবেগঘন একটি মুহূর্ত। সম্প্রতি তিনি ও তার সঙ্গিনী তাদের অনাগত সন্তান হারানোর দুঃসংবাদ জানিয়েছেন। গোল করার পর হাঁটু গেড়ে আবেগ প্রকাশ করেন গাকপো। পরে পুরো ডাচ দল বেঞ্চ থেকে উঠে এসে তাকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠে।
ম্যাচের শেষ দিকে মনে হচ্ছিল এই একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করবে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে মরক্কো ঘুরে দাঁড়ায়। ডিফেন্ডার ইসা দিওপ হেড থেকে গোল করে সমতা ফেরান, ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি। ৯৭তম মিনিটে সোফিয়ান রাহিমি রক্ষণভাগ ভেদ করে এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তবে ভারব্রুগেন অবিশ্বাস্য এক সেভ করে নেদারল্যান্ডসকে আবারও বিপদমুক্ত করেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় পেনাল্টি শুটআউটে। দুই দলেরই কয়েকজন খেলোয়াড় স্পটকিক মিস করায় শুটআউট আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে।
সর্বশেষে জয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে ইসমাইল সাইবারির কাঁধে। ম্যাচের শুরুতে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেননি তিনি। ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে এনে দেন স্মরণীয় জয় এবং নিশ্চিত করেন শেষ ষোলোর টিকিট।

