× UCB Sticker Card
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০২:০০ এএম

আর্জেন্টিনাকে কেন ‍‍‘ফিফার দল‍’ বলা হয়?

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০২:০০ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মাঠে এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি ম্যাচ পরিচালনা ও ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

অনেকের প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা কি সত্যিই 'ফিফার দল', নাকি এটি শুধুই সমর্থকদের আবেগ?

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল মিশর। প্রথমার্ধে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মোস্তফা জিকো ব্যবধান ২-০ করলে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য দর্শক অভিযোগ তুলেছেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। বিশেষ করে ভিএআরের মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

সমালোচকদের দাবি, যে ধরনের ব্যাখ্যায় মিশরের গোল বাতিল করা হয়েছে, প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনায় আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউলের অভিযোগ ওঠে। মিশরের খেলোয়াড়রা ভিএআর পর্যালোচনার দাবি জানালেও রেফারি সেটি দেখার প্রয়োজন মনে করেননি। বরং প্রতিবাদের জেরে কয়েকজন খেলোয়াড়কে সতর্ক করা হয়। এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী।

আরেকটি আলোচিত ঘটনা ছিল মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি। অনেকের মতে, সেটি স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল। তবে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত 'বেনিফিট অব দ্য ডাউট' শক্তিশালী বা ফেভারিট দলগুলোর পক্ষেই যায়। সমর্থকদের একটি অংশের প্রশ্ন, একই সুবিধা মিশর কেন পেল না?

তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, বিতর্ক থাকলেও ম্যাচের শেষ ভাগে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন ছিল অসাধারণ। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও দলটি যেভাবে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতারই পরিচয়।

বিশেষ করে লিওনেল মেসির নেতৃত্ব, রোমেরোর গোল, এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক হেড এবং পুরো দলের লড়াকু মনোভাবই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে।

বাস্তবতা হলো, ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ভিএআর চালু হওয়ার পরও অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ সব পরিস্থিতির ব্যাখ্যা একরকম হয় না। তবে একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত এলে পক্ষপাতের অভিযোগ জোরালো হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

আর্জেন্টিনা সত্যিই 'ফিফার দল' কি না, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। এটি মূলত সমর্থকদের দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত অভিযোগ, যা বিতর্কিত ম্যাচের পর নতুন করে আলোচনায় আসে।

তবে এই ম্যাচে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা, ভিএআর ব্যবহারের মানদণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক।

একই সঙ্গে এটাও সত্য, মিশর এই ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই করেছে। বিশেষ করে প্রথম ৭০ মিনিটে তাদের পারফরম্যান্স অনেকের কাছেই আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ছিল। ফলাফল তাদের পক্ষে না গেলেও, অনেক নিরপেক্ষ দর্শকের চোখে তারাই ম্যাচের 'পিপলস চ্যাম্পিয়ন' হয়ে উঠেছে।

Link copied!