দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সকাল শুরু হওয়ার আগেই গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে, আর দিনের বাকি সময়জুড়ে ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নাকাল মানুষ। অতিরিক্ত গরমে রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, ঘরের ভেতরেও স্বস্তি মিলছে না। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৪৫টি জেলার ওপর মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি আগামী বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে দু-এক পশলা বৃষ্টি হলেও তা গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী আরও দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, জুন মাসের আবহাওয়া নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।
সাধারণত জুন মাস দেশের অন্যতম বৃষ্টিবহুল সময়। এ মাসে গড়ে প্রায় ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। জুলাই মাসে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ৫২৩ মিলিমিটার, যা বছরের সর্বোচ্চ।
তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হিসেবে পরিচিত। ওই সময়ের অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন