× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

খারগ দ্বীপ কোথায়, হঠাৎ করে কেন আলোচনায় এটি

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

খারগ দ্বীপ । ছবি : প্যালেস্টাইন ক্রনিকল

খারগ দ্বীপ । ছবি : প্যালেস্টাইন ক্রনিকল

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের খারগ দ্বীপটি ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। শনিবার (১৪ই মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন , মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) খারগ দ্বীপের ‘সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করেছে। এই আক্রমণকে তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।

তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ডের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি নিশ্চিত করেছে যে— ‘তার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার জবাবে এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন অংশীদারিত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতাকারী তেল কোম্পানিগুলোর স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।’

ইরান উপকূল থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত এই ছোট প্রবাল দ্বীপটি দেশটির তেল শিল্পের মূল ভিত্তি। কৌশলগত গুরুত্ব এবং লক্ষ্যবস্তু করা তুলনামূলক সহজ হওয়া সত্ত্বেও, চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত এটি কোনো সরাসরি আঘাতের শিকার হয়নি।

তবে মার্কিন ওয়েবসাইট ‘অ্যাক্সিওস’ এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অঞ্চলের যুদ্ধ মোকাবিলায় সাম্প্রতিক আলোচনার সময় মার্কিন প্রশাসন খারগ দ্বীপ দখল করে নেওয়াসহ বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে বিতর্ক করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ওয়াশিংটনের কিছু বিশ্লেষক ও কর্মকর্তার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, এই দ্বীপটি লক্ষ্যবস্তু করা বা এমনকি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অর্থ আসলে কী হতে পারে।

সংবেদনশীল সামরিক লক্ষ্যবস্তু

খারগ দ্বীপের অর্থনৈতিক গুরুত্ব একে একটি সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই দ্বীপটিতে হামলা চালানো বা এটি দখল করা হলে ইরানের তেল রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশটির সরকারি আয়ের প্রধান উৎস।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড অ্যাজেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি তেলের মজুদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’ এর মাধ্যমে তিনি তেহরান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ইরানের জ্বালানি সম্পদ জব্দ করার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটেই দেশটির বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন এই পদক্ষেপকে ইরান সরকারের ‘তেল রাজস্ব বন্ধ করার’ একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা রিচার্ড নেফিউ সতর্ক করেছেন যে, এই দ্বীপে হামলা ‘সংঘাতের বড় ধরনের বিস্তার ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে সম্ভবত কেবল বিমান হামলা নয়, বরং একটি স্থল অভিযানের প্রয়োজন হবে—যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত দ্বিধাগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছে।

ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র

দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত খার্গ দ্বীপের আয়তন ২০ বর্গকিলোমিটার, এবং এটি বুশেহর প্রদেশের অংশ। দ্বীপটি তার তেল স্থাপনা এবং সেখানে অবাধে বিচরণকারী বিপুল সংখ্যক হরিণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

দ্বীপটিকে হরিণের আবাসস্থল ও প্রজননের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরিণের সংখ্যা ইতিমধ্যেই দ্বীপটির ধারণক্ষমতাকে অতিক্রম করেছে।

ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, এবং এখানেই একটি প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত।

ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এরপর ট্যাঙ্কারগুলো বিশ্ববাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, যার পথ হিসেবে প্রায়ই হরমুজ প্রণালী ব্যবহৃত হয়-যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ।

এই দ্বীপের লোডিং সুবিধাগুলো প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের তেল খনি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে একটি প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে।

দ্বীপটি সমুদ্রের তলদেশের পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরানের বৃহত্তম কিছু তেল খনির সাথে সংযুক্ত। খনি থেকে তেল দ্বীপে আনা হয় এবং সেখানে বড় বড় ট্যাঙ্কে জমা রাখা হয়। এরপর গভীর সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ডকের মাধ্যমে বিশালাকার ট্যাংকারে তেল বোঝাই করা হয়।

এটি প্রয়োজনীয় কারণ ইরানের উপকূলীয় এলাকার বেশিরভাগ অংশ তুলনামূলক অগভীর এবং সেখানে বিশালাকার ট্যাঙ্কার ভিড়তে পারে না। ফলে খারগ দ্বীপই বড় পরিসরে এই কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতাসম্পন্ন অন্যতম স্থান।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর সান্নিধ্য, নৌ-চলাচলের সুবিধা এবং বৃহৎ তেল ট্যাঙ্কারের নোঙরের জন্য উপযোগী গভীর পানির মতো সুবিধার কারণে খারগকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও লোডিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে ধরা হয়।

ইরানের বৃহত্তম সামুদ্রিক তেলক্ষেত্র আবু জার, খার্গের পশ্চিমে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পারস্য উপসাগরে ইরানের তেল উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশই এই তেলক্ষেত্র থেকে আসে।

আবু জার তেলক্ষেত্রে তিনটি প্রধান অপারেটিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, প্রতিটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০ হাজার ব্যারেল। আবু জার তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও খারগ দ্বীপেই অবস্থিত। এ কারণেই খার্গ দ্বীপকে ইরানের অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরানিয়ান অয়েল টার্মিনালস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, খারগে ৪০টি অপরিশোধিত তেলের সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক রয়েছে, যেখানে ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল মজুত রাখা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল সাগরতলের পাইপলাইনের মাধ্যমে খারগের সংরক্ষণাগারে প্রবেশ করে।

অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের পাশাপাশি খারগে রপ্তানির জন্য বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল পরিমাপ ও পৃথকীকরণের কাজও সম্পন্ন করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দ্বীপটি অর্থনৈতিকভাবে একটি বড় দুর্বলতারও জায়গা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এর গুরুত্ব এতটাই বেশি যে এখানে বিঘ্ন ঘটলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে এই দ্বীপে বিশাল স্টোরেজ সুবিধা, তেল রপ্তানি টার্মিনাল, শ্রমিকদের আবাসন এবং একটি ছোট বিমানবন্দর রয়েছে যা একে ইরানের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে।

কৌশলগত গুরুত্ব

কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা সহজ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সংঘাতে খারগ দ্বীপে এর আগে হামলা চালানো হয়নি। বিশ্লেষকরা এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন।

এই দ্বীপে হামলা চালানো হলে যুদ্ধের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে পারে এবং ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলবে।

জেপি মর্গান-এর বিশ্লেষকরা গত সোমবার সতর্ক করেছেন যে, এই দ্বীপের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ ‘বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে এবং তেহরানকে এই অঞ্চলের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা বা হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত করতে উসকে দিতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল বাজারে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইরানের প্রধান রপ্তানি টার্মিনাল ধ্বংস করলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইরানের অভ্যন্তরীণ যেকোনো রাজনৈতিক উত্তরণকে জটিল করে তুলতে পারে।

এসব কারণে বছরের পর বছর ধরে খারগ দ্বীপকে আঞ্চলিক সংঘাতে একটি সংবেদনশীল 'রেড লাইন' হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

দীর্ঘ ইতিহাস

১৯৬০-এর দশক থেকে ইরানের তেল রপ্তানিতে খারগ দ্বীপ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে, যখন মার্কিন তেল কোম্পানি অ্যামোকো-র অংশগ্রহণে এর অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

অতীতেও এই দ্বীপটি সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত করতে এখানে বারবার বোমা হামলা চালানো হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন যে, এই দ্বীপে হামলা চালানোর বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে মার্কিন জিম্মি সংকটের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও এই দ্বীপে হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তার উত্তরসূরি রোনাল্ড রিগান আশির দশকে ইরান ও ইরাকের মধ্যে তথাকথিত 'ট্যাঙ্কার যুদ্ধ'-এর সময় জাহাজ চলাচল রক্ষা এবং ইরানের জাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম লক্ষ্যবস্তু করার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু খারগ দ্বীপ হামলার আওতার বাইরেই ছিল।

জেপি মর্গান চেজ জানিয়েছে যে, আট বছরের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনী কিছু রপ্তানি টার্মিনাল এবং তেলের ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু করলেও খারগ দ্বীপ মূলত সচল ছিল এবং কোনো ক্ষতি হলে তা দ্রুত মেরামত করা হতো। ব্যাংকটি আরও যোগ করেছে যে, এটি প্রমাণ করে যে এই দ্বীপটি অচল করতে হলে বড় মাপের এবং ধারাবাহিক হামলার প্রয়োজন হবে।

এই দ্বীপ বিশ্বের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

খারগ দ্বীপের গুরুত্ব কেবল ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের তেল রপ্তানির সিংহভাগ এখান দিয়ে হওয়ার কারণে এখানে যেকোনো বিঘ্ন বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে এবং এই সম্পদ রপ্তানির প্রধান পথ হলো এই দ্বীপটি।

রপ্তানি বন্ধ হলে বা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো নিকটবর্তী সমুদ্রপথের গুরুত্বের কারণে।

বর্তমানে খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামো সামরিক হামলা থেকে দূরে রয়েছে। কিন্তু সংঘাত চলতে থাকায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির সাথে কেমন আচরণ করে, তা ইরানের ব্যাপারে তাদের সামগ্রিক কৌশল সম্পর্কে অনেক কিছু স্পষ্ট করবে।

খারগ সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য

খারগ দ্বীপে দুটি ঘাট রয়েছে—একটি পূর্বদিকে, আরেকটি পশ্চিমদিকে। ১৯৫৫ সালে একটি তেল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর খারগে লোডিং ডক এবং অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়।

দ্বীপটিতে অপরিশোধিত তেলের গুণগতমান পরীক্ষা করার জন্য একটি ল্যাবরেটরিও রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইরানিয়ান অয়েল টার্মিনালস অর্গানাইজেশন দাবি করে, এটি বিশ্বের সেরা ল্যাবরেটরিগুলোর একটি।

খারগ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিও দ্বীপটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার উদ্দেশ্য তেল উত্তোলনের ফলে উৎপন্ন গ্যাস শিখায় পুড়ে নষ্ট হওয়া ঠেকিয়ে তা মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করা। এই কোম্পানি মিথানল, সালফার, প্রোপেন, বিউটেন এবং ন্যাফথা (গ্যাসোলিন) উৎপাদন করে।

আট হাজারের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই খারগ দ্বীপেই ইসলামী আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে মেরিন সায়েন্স এবং আর্টস বিভাগ আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাক্ষেত্রগুলোর একটি হলো তেল ও সামুদ্রিক বিষয়ক অধ্যয়ন।

খারগ দ্বীপে ভূমির সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এটি প্রায়ই ঝড়ো আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়। তাই ২০১৬ সালে দ্বীপের ২৩ কিলোমিটার দূরে, বুশেহর প্রদেশের ভেতরে, ১ কোটি ব্যারেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!