কলম্বিয়ার আমাজন রেইনফরেস্টে ১২৫ জন আরোহী নিয়ে দেশটির বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কয়েক দশকের পুরোনো জরাজীর্ণ এই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন আরোহীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনী প্রধান। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশিই দেশটির তরুণ সেনাসদস্য বলে জানা গেছে।
দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় পেরু সীমান্তবর্তী একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই যান্ত্রিক গোলযোগের শিকার হয় লকহিড মার্টিন সি-১৩০ মডেলের বিমানটি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'ব্লু রেডিও' জানিয়েছে, একটি জনাকীর্ণ শহর থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে ঘন রেইনফরেস্টে আছড়ে পড়ে বিমানটি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীকে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, বিধ্বস্ত হওয়া হারকিউলিস বিমানটি ছিল কয়েক দশকের পুরোনো। কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশক থেকেই এই মডেলের বিমান ব্যবহার করে আসছে।
এই বিমান দুর্ঘটনার পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সামরিক খাতের আধুনিকায়নে বাধা দানকারীদের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি জানান, সামরিক বাহিনীর মানোন্নয়নে কোনো প্রকার বিলম্ব আর সহ্য করা হবে না। দেশের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো বেসামরিক বা সামরিক কর্মকর্তা আধুনিকায়নের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
যান্ত্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া এসব বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। উল্লেখ্য, গত মাসেই প্রতিবেশী দেশ বলিভিয়াতেও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


