ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসরায়েলের হত্যা তালিকা থেকে বাদ দুই ইরানি শীর্ষ নেতা

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফকে তাদের ‘হিট লিস্ট’ বা হত্যার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে ইসরায়েল। 

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ওই সূত্রটি জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী আরাগচি ও কলিবাফের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে তাদের ওপর হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল। এই খবর পাওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করে। 

ইসলামাবাদ যুক্তি দেয় যে, যদি ইরানের এই শীর্ষ স্তরের নেতাদেরও হত্যা করা হয়, তবে শান্তি আলোচনার জন্য তেহরানে আর কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না। পাকিস্তানের এই যুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ইসরায়েল তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এই দুই ইরানি কর্মকর্তাকে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। 

তবে ওই প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সরাসরি ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের সাথেই সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান। 

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধের মতো কঠোর শর্ত রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স