ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে শঙ্কায় আরব বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে। দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আসন্ন আলোচনা কেবল হরমুজ প্রণালি সচল রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। 

এতে করে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে পরিচিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো উপেক্ষিত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সাম্প্রতিক এক হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর এই ভয়কে আরও ঘনীভূত করেছে। মেদভেদেভ হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অঘোষিত ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই জলপথের কৌশলগত শক্তি অপরিসীম। 

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এবারের আলোচনার মূল ফোকাস ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা আঞ্চলিক প্রক্সি নয়, বরং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব মোকাবিলার ওপর। 

উপসাগরীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে কমানোর বদলে বরং সেটিকে আরও শক্তিশালী করবে। তাদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তেহরানের সাথে একটি ‘সীমিত’ চুক্তি করবে, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মতে, আগে হরমুজ প্রণালি আলোচনার বড় কোনো বিষয় না থাকলেও বর্তমানে এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় দর কষাকষির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, আলোচনার ‘গোলপোস্ট’ বদলে গেছে এবং হরমুজ প্রণালিই এখন সব পক্ষের কাছে মূল ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বীকার করে জানান, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য একটি ‘গোল্ডেন অ্যাসেট’। বছরের পর বছর ধরে তারা এই জলপথকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। 

ইরানের বিপ্লবী গার্ডসের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ এখন খাপ থেকে বের করা তলোয়ারের মতো, যা উপেক্ষা করার ক্ষমতা বিশ্বশক্তির নেই।

এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ইবতেসাম আল-কেতবি এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, এটি কোনো ঐতিহাসিক সমঝোতা নয় বরং এটি একটি পরিকল্পিত ‘টেকসই সংঘাতের’ ইঞ্জিনিয়ারিং। 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই অঞ্চলের দেশগুলো, অথচ আলোচনায় বিশ্বশক্তির কাছে কেবল জ্বালানি তেলের রুটটিই প্রাধান্য পাচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স