সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ছয় দশক ধরে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক (OPEC) ও ওপেক+ (OPEC+)-এর সদস্য ছিল। তবে এবার সেই সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। আরব আমিরাতের সরকার জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবর্তিত জ্বালানি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালে ওপেকে যোগ দেওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়লে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১১-তে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, জোটের বাইরে গেলে তাদের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও স্বাধীনতা ও নমনীয়তা আসবে।
বিশ্লেষকেরা এই সিদ্ধান্তকে ওপেকের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। এমএসটি ফিন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সাউল ক্যাভোনিক একে “ওপেকের পতনের সূচনা” বলে মন্তব্য করেছেন।
তার মতে, আমিরাতের প্রস্থানে জোটটি মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৫ শতাংশ হারাবে এবং তুলনামূলকভাবে নিয়ম মেনে চলা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকেও হারাবে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরে প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যেখানে ওপেকের কার্যত নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরব প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় সৌদি আরবের ওপর জোটকে একত্রে রাখা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আরও বাড়বে।
ক্যাভোনিক আরও সতর্ক করেন, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ওপেকের অন্যান্য সদস্যদেশও একই পথে হাঁটতে পারে, যা জোটটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন