ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে আবারও আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এমন সামরিক পদক্ষেপ চলমান যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।
রোববার গভীর রাতে ইরানের হামলার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় সংঘাত বাড়ানোর নয়; বরং আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তার আশা, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
এর আগে, ৬ জুন শনিবার সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েহ এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ওই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে।
বৈরুতে হামলার পরপরই ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ ধরনের অভিযান তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
অন্যদিকে, রোববারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা জানা না গেলেও পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান বহুবার সতর্ক করেছে। তাঁর ভাষ্য, সর্বশেষ হামলা ছিল সেই আগ্রাসনের জবাব।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এটি কেবল একটি বার্তা। যদি প্রতিপক্ষ এ সতর্কতা উপেক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং তার মূল্যও বেশি দিতে হবে।
এদিকে ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ইতামার বেন গিভরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।


