ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

উত্তর ইসরায়েলে ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা জানা না গেলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। পরে আইডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েল সরকার দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে ৬ জুন লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ওই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকাতেও বিমান অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল। এতে লেবাননের সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ কয়েকজন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বলেন, লেবাননে চলমান আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ইরান মেনে নেবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা।

তিনি আরও বলেন, এই বার্তা উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে প্রতিপক্ষকে।

অন্যদিকে ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।