তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি সমঝোতার খসড়ায় একমত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন বার্তা আসায় চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, দুই দেশ এখন শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং অনলাইন পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। তার মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
তবে ইরান জানিয়েছে, রোববারই কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে, তবে দিন-তারিখ নিয়ে এখনই নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, অপর পক্ষের কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্বও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।
বাঘায়ি আরও জানান, ইসলামাবাদ কিংবা জেনেভায় আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে কোনো আলোচক দল পাঠানোর পরিকল্পনা ইরানের নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। পরে ইরানও পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায়, যা কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা অব্যাহত রাখে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার বলেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তাঁর মতে, চলমান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই বিজয়ী হয়েছে।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরাঘচির ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। সূত্রটির দাবি, ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডও ঘটনাটি নিশ্চিত করে এবং জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শান্তিচুক্তির পর শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে প্রায় ৬০ দিনব্যাপী আলোচনা চলতে পারে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে তেহরানের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই বিদায়ী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৬ জুলাই সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৭ জুলাই কোম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।
সবশেষে ৯ জুলাই একটি চূড়ান্ত জানাজা শেষে মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন