ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ইরানের চুক্তির খসড়া দেখতে চায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যান

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, চুক্তির খসড়া বা সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেল আবিব। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এ দাবি নাকচ করেছেন।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর হতে যাওয়া এই সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনও জানে না ইসরায়েল। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির বিস্তারিত এখনও ইসরায়েলের কাছে অজানা থাকলেও শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ইসরায়েল এ ধরনের কোনো অনুরোধই জানায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ওয়াশিংটন ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছে।

চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকের ‘প্রতিটি শব্দ’ নিজে পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নথিটির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এতে ১৪টি ধারা রয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান পুনর্গঠনের পরিকল্পনা।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে এবং এরপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।