ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

পাকিস্তানে ফের বিমান হামলা চালাল আফগানিস্তান

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী ও ‘বৈরী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের’ অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার (১৯ জুন) আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গভীর রাতে পরিচালিত এই হামলা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযানটি পরিচালিত হয়। আফগানিস্তানের দাবি, সীমান্তঘেঁষা এসব এলাকায় আইএসআইএল-খোরাসান (আইএসআইএস-কে) জঙ্গিদের ঘাঁটি ছিল।

কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নীরব সহায়তায় ওই ঘাঁটিগুলো থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, হামলায় আইএসআইএস-কের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্তানাসহ একাধিক কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আফগান দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, দায়েশসহ দুই ডজনের বেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আফগান তালেবান সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আফগানিস্তানের ভেতরেই অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

হামলায় কী ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আফগান কর্তৃপক্ষ। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের কাছে ভারী যুদ্ধবিমান না থাকলেও কয়েকটি হালকা বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং একাধিক সামরিক ড্রোন রয়েছে, যেগুলো অতীতেও পাকিস্তানবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যেতে থাকে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। চলতি বছরের মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই হামলাকে অনেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজন হলে হুমকির উৎস নির্মূলে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

সূত্র: আল-জাজিরা।