হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। আমদানিকারকদের উদ্বেগ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম এখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার সকালে ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়ায়।
এর ফলে উভয় ধরনের তেলের দামই গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম ছিল। সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের তুলনায় আগস্টে সরবরাহযোগ্য তেলের দাম কমে যাওয়া স্বল্পমেয়াদে বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ইঙ্গিত দেয়।
আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, তেলের দামের পতনের গতি অনেককেই বিস্মিত করেছে। বাজার এখন ধরে নিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
এর আগে বুধবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি কমে যায়। একই দিনে ডব্লিউটিআইয়ের দামও প্রায় ৩ ডলার কমে দিনের লেনদেন শেষ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখন সংঘাত-পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কারণ প্রণালির কিছু এলাকায় এখনও মাইন অপসারণের কাজ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক ছাড় পাওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানি বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ে আগামী ৬০ দিন আলোচনা চলবে।
এদিকে ট্যাংকার চলাচল সহজ করতে বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথ চালু করেছে ওমান। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) এবং ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জাহাজ চলাচল সমন্বয় করছে।
ম্যাককোয়ারি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে বাজার খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেলে তেলের দাম দ্রুত সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসবে।
তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম ৬২ ডলারে নেমে আসতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের গড় মূল্য যথাক্রমে ৯৪ ও ৮৭ ডলার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শোধনাগারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড় করাই এর প্রধান কারণ। তবে এ তথ্য বাজারে তেমন প্রভাব ফেলেনি। কারণ বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর ছিল হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন