মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কংগ্রেসের একাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য আপত্তি জানিয়েছেন।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পরই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই পদক্ষেপ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এরদোগানকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের একজন হিসেবে দেখে।
তবে কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয় চুক্তি আটকে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এমনকি বিল পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, তুরস্কের এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে প্রশাসন যথেষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
মিকসের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম সরবরাহে কয়েক বছর সময় লাগবে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নে প্রশাসন এখনো সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে জেট ইঞ্জিন বিক্রি, এফ-৩৫ কর্মসূচি এবং আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করবে।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) নির্মিত এই ইঞ্জিনগুলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো।
তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পুরোপুরি বিকল্প হিসেবে কানকে কার্যকর হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। পাশাপাশি কংগ্রেস এমন আইন পাস করে, যাতে এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে।
এদিকে আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাও জেট ইঞ্জিন বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। প্রতিনিধি ক্রিস পাপাশ বলেন, মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও এরদোগান সরকারকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত নয় এবং তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস ঘোষণা দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোলে তিনি কংগ্রেসে জেট ইঞ্জিন বিক্রি ঠেকাতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন