× UCB Sticker Card
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে নায়ক, সেই একই সংকটে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পতন

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত

ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাস কখনও কখনও এমনভাবে ফিরে আসে, যা রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও প্রতীকী করে তোলে। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের, প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলো তাকে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

১৯৯৭ সালে ওড়িশার রাজপথে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। সে সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। আর ২০২৬ সালে, দিল্লিতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হলো তাকে।

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক বিরল ও প্রতীকী অধ্যায়। যে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত একই ধরনের সংকটই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টেনে দিল।

১৯৯৭ সালে ওড়িশায় তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের আমলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সে সময় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ১৮ বছর বয়সি উঠতি ছাত্রনেতা ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

ভুবনেশ্বরে সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে গুরুতর আহত হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে যায়। সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনই তাকে ওড়িশার গণ্ডি পেরিয়ে বিজেপির জাতীয় রাজনীতিতে একজন লড়াকু ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

পরবর্তীতে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতায় পরিণত হন। ২০২৪ সালে ওড়িশায় টানা প্রায় আড়াই দশকের বিজু জনতা দল (বিজেডি) সরকারের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর আগে ২০২১ সালে তাকে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইতিহাসের এই পরিহাসই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ—যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন এক সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে জাতীয় নেতৃত্বের পথে এগিয়ে দিয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস-সংকটই তার শিক্ষামন্ত্রীর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!