মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ, রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত এবং ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান গণহত্যার মধ্যে রবিবার (৩১ আগস্ট) থেকে চীনের তিয়ানজিনে শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৫ তম সম্মেলন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র আমন্ত্রণে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন কমপক্ষে বিশ্বের ২০ দেশের নেতারা। সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, জাতিসংঘের মহাসচির অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। গতবছর কাজাখস্তানে এসসিও-র ২৪তম সম্মেলনে সদস্য দেশের পাশাপাশি যোগ দিয়েছে পর্যবেক্ষক দেশ ও সংলাপ অংশীদার দেশগুলোও।
সম্মেলনে ‘তিয়ানজিন ঘোষণাপত্র’ দিবে বেইজিং। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেন্জ করে উপস্থিত নেতারা নিজেদের স্বার্থে বহু প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিয়ানজিন সম্মেলনে নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি,ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ এসসিও ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন আসলে কি :
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান যৌথভাবে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) প্রতিষ্ঠা করে। উজবেকিস্তান ছাড়া বাকি দেশগুলো এর আগে 'সাংহাই ফাইভ'-এর সদস্য ছিল। সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক ক্ষেত্রে আস্থা তৈরির চুক্তি (সাংহাই, ১৯৯৬) এবং সীমান্ত অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী হ্রাস করা নিয়ে যে চুক্তি (মস্কো, ১৯৯৭) হয়েছিল, তার উপর ভিত্তি করে গঠন হয়েছিল 'সাংহাই ফাইভ' গোষ্ঠী।
২০০১ সালে এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয় উজবেকিস্তান। সে সময় সাংহাই ফাইভের নাম বদলে রাখা হয় 'সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন'। ভারত ও পাকিস্তান যোগ দেয় ২০১৭ সালে এবং ২০২৩ সালে ইরান এসসিও-র সদস্য হয়।
এসসিও-র সদস্য দেশ
বর্তমানে এসসিও-র সদস্য দেশের সংখ্যা ৯। এই তালিকায় আছে ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, চীন, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান।
আফগানিস্তান, বেলারুশ এবং মঙ্গোলিয়া এসসিও-র পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদায় রয়েছে এবং আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, বাহরাইন, কম্বোডিয়া, মিশর, কুয়েত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত 'সংলাপ অংশীদারে'র (ডায়ালগ পার্টনার) মর্যাদায় রয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক জোরদার করা, রাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতির পাশাপাশি শিক্ষা, শক্তি, পরিবহন, পর্যটন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতার কথা বলে এই জোট। এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা মজবুত করার বিষয়েও এসসিও জোর দেয়। এসসিও-র তরফে জানা যায়, জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য চরমপন্থা, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং কট্টরবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এসসিও-র সদস্য দেশগুলোর বাসিন্দা। বিশ্বের জিডিপির ২০ শতাংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। বিশ্বের মজুদ মোট তেলের ২০ শতাংশই এই দেশগুলোর দখলে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন