যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এই সপ্তাহে জার্মানিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন শান্তিচুক্তি।
উইটকফ ইতিমধ্যেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন বলেন, বড় কোনো চুক্তি ২৫ ডিসেম্বর মধ্যে সম্পন্ন হবে। তবে এখনও কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত হয়নি। প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ অংশ নিতে পারেন।
ইউক্রেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ২০‑দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবটি গত নভেম্বরের শেষ দিকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এবং তা কূটনৈতিক কার্যক্রম তীব্র করে তুলেছে।
রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দক্ষিণ ইউক্রেনে রাত্রি জুড়ে অব্যাহত ছিল। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ সময় নাগরিক স্থাপনা, শিল্প ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। ৪৫০-এর বেশি ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দুইজন আহত এবং সাতটি অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিজ়হাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে, যা মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতে পারে।
জাতিসংঘের আণবিক তত্ত্বাবধান সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাময়িকভাবে সমস্ত বিদ্যুৎ বন্ধ হয়েছিল, তবে তা এখন পুনঃসংযুক্ত হয়েছে।
পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে এখনও আলোচনা সবচেয়ে কঠিন বিষয়। কিয়েভ এই অঞ্চলের কোনো অংশ ছাড়তে রাজি নয়, এবং মস্কো বলছে, যদি ইউক্রেন সরিয়ে না দেয়, তাহলে পুরো দোনবাস জোরপূর্বক দখল করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের সেনারা দোনবাসের কিছু এলাকা ছেড়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তর করবে। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাবকে প্রকাশ্যভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়াকে কে আটকাবে? তারা কি ছদ্মবেশী নাগরিকের মতো ঢুকে পড়বে না?
এদিকে, ইউক্রেনের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটজনক। আগামী দুই বছরে দেশটির অতিরিক্ত প্রায় ১৩৫.৭ বিলিয়ন ইউরোর প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুক্রবার প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের রাশিয়ান সম্পদ স্থায়ীভাবে বরফবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থ ইউক্রেনকে ঋণ হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যদি শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়।
সূত্র : বিসিবি



