মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যে বলা হয়েছে, এ হামলায় রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও শিশুসহ ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্র পরিচালিত গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর তথ্য অফিস জানায়, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী- জাতিগত আরাকান আর্মি (এএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)- হাসপাতালটিকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর হাসপাতাল ভবন লক্ষ্য করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত ও আহতরা সবাই বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বা তাদের সমর্থক, বেসামরিক নাগরিক নন।
তবে রাখাইনের উদ্ধার পরিষেবার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের জেনারেল হাসপাতালে একটি সেনাবাহিনীর জেট ফাইটার থেকে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে রোগী ও চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত ৩৪ জন নিহত এবং প্রায় ৮০ জন আহত হন। বুধবার রাতের ওই হামলায় হাসপাতাল ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ হামলা দেশজুড়ে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর চলমান ধ্বংসাত্মক হামলার একটি অংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি হাসপাতালে হামলার খবরে তিনি ‘মর্মাহত’। এ ধরনের হামলা পুরো সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ম্রাউক-ইউ শহরটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির দখলে যায়। আরাকান আর্মি রাখাইন জাতিগত সংখ্যালঘুদের একটি সুপ্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সশস্ত্র সংগঠন, যারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে।
গোষ্ঠীটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনজুড়ে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সেনা সদর দপ্তরসহ রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানায়, তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এ হামলার জন্য সেনাবাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ‘দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সঙ্গে গোষ্ঠীটি অভিযোগ করে, হাসপাতাল হামলার পর থেকে সেনাবাহিনী রাখাইনের অন্তত পাঁচটি শহরে রাতের বেলায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে আটজন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিরোধিতা ও সশস্ত্র প্রতিরোধের ফলে বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশ সংঘাতের আওতায় রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন