ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রবাসীদের বড় সুসংবাদ দিল সৌদি আরব

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ১২:১১ পিএম
সৌদি আররের প্রবাসী। ছবি - সংগৃহীত

সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির ফলে দেশটি থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এখন রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সৌদি অর্থনীতিতে নগদ লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি করছে।

সাম্প্রতিকগুলো তথ্য বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরব থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখছে।

২০১৭ সাল থেকে সৌদি নাগরিকদের জন্য প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও, একই সময়ে প্রবাসীদের জন্য তৈরি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি সরকার সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থের ‘ফাঁস’ কমানোর চেষ্টা করছে।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো এগিয়ে রয়েছে। আমিরাত এরই মধ্যে প্রবাসীদের জন্য সম্পত্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়িয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ধরে রাখতে অবসরকালীন সঞ্চয় পণ্য চালু করেছে।

এদিকে শিল্প খাতে গতি আনতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার করতে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আরোপিত ইকামা বা ওয়ার্ক পারমিট ফি মওকুফের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা।

সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নবিষয়ক পরিষদের (সিইডিএ) সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট। প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর পর প্রবাসী কর্মীদের ওপর আরোপিত এই লেভি ফি বাতিল করা হলো।

শিল্প ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বান্দার আলখোরায়েফ বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আরোপিত আর্থিক চার্জ মওকুফের ফলে সৌদি আরবে টেকসই শিল্প উন্নয়ন আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় শিল্প খাতকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই মন্ত্রী আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত সৌদি শিল্প খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে এবং তেলনির্ভরতা কমিয়ে অ-তেল খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।

আলখোরায়েফের ভাষায়, ইকামা ফি বাতিলের ফলে কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় কমবে, মানসম্মত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ পাবে। পাশাপাশি অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির মতো উন্নত ব্যবসায়িক মডেল দ্রুত গ্রহণে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।