ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, নিহত ১৭

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলার একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছেন হেরাত গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী।

আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হামাদ জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া বন্যায় মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বন্যায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বহু গবাদিপশু মারা গেছে এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে শহর ও গ্রামীণ এলাকার আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর দুরবস্থা আরও বেড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরিপ দল পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজন নির্ধারণে কাজ চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হেরাত-কান্দাহার মহাসড়কের দাশত-ই বাকওয়া এলাকায় বন্যার তীব্র স্রোতে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে যাচ্ছে এবং মানুষ প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে সংগ্রাম করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানিয়েছেন যে, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরিপ দল পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণে কাজ চলছে।

ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান বর্তমানে চরম আবহাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিগ্রহ, দুর্বল অবকাঠামো এবং বন উজাড়ের ফলে মৌসুমি বৃষ্টির পর দেশটিতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁচা মাটির ঘরগুলো সামান্য দুর্যোগেই ধসে পড়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। 

এর আগে গত আগস্টে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই বন্যা পরিস্থিতি দেশটির মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকটের দেশ হিসেবেই থাকবে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যা মেটাতে জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে। 

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যার কারণে আফগানিস্তানের এই দুর্যোগ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা