ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মিয়ানমারে চলছে বিতর্কিত নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
মিয়ানমারে চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ। ছবি : সংগৃহীত

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর পরিচালনায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন ধাপের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এর আগে ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ভোট হয়, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ; যা ২০২০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম। এ নির্বাচনকে জান্তার শাসন আনুষ্ঠানিক করার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তৎকালীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে। ওই সরকারের নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে আটক করা হয়। সে অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে শুরু হয় সংঘাত।

সু চির নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছিল। চলতি নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয় দলটি। পরে এটিকে জান্তাবিরোধী আরও কয়েক ডজন দলের সঙ্গে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ভোটে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিসংঘ, বহু পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ‘বাস্তব কোনো বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে আয়োজিত এ নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে একটি প্রহসন। এটি না অবাধ, না সুষ্ঠু, না বিশ্বাসযোগ্য হবে।’

প্রথম পর্যায়ের ভোট গ্রহণে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ভোটে নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে দলটি ৯০টিতে জয় পেয়েছে।

ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপি ভূমিধস জয়ের পথে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, শুরু থেকেই নির্বাচনি মাঠকে তাদের অনুকূলে করে রাখা হয়েছে, যেমন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভোটের বিরোধিতাকারীদের দমনের উদ্দেশে একগুচ্ছ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। সব মিলে মিয়ানমারের ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হবে। এর মধ্যে এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

জান্তা বলেছে, এ নির্বাচন দেশকে রাজনৈতিক স্থিরতা এনে দেবে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেবে। দেশটি এশিয়ার অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

বৈশ্বিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য বলছে, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাপক সংঘাতের মধ্যে স্থিতিশীল প্রশাসন গঠন করতে জান্তা যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, সেনা-নিয়ন্ত্রিত কোনো সরকারের পক্ষেই ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব নয়।

গত মাসে এক সাংবাদিক মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে তার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে তিনি সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের একটি প্রশাসনিক এলাকায় সফরের সময় মিন অং হ্লাইং এ নির্বাচনকে একটি সাফল্য বলে উল্লেখ করেন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়াতে কাজ করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।