ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মার্কিন-চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তেল নিয়ে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
তেল সংকটের ছায়ায় মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ ও উত্তেজনা জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়, শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ফলে ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকটের মতো পরিস্থিতির স্মৃতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্লেষকদের মতে, যেসব অঞ্চল ও দেশ থেকে চীন জ্বালানি আমদানি করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বেইজিংয়ের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলছে।

এর আগে ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হস্তক্ষেপের কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেলে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে হরমুজ ঘিরে উত্তেজনাও চীনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, চীনের আমদানি করা জ্বালানির প্রায় ৫০ শতাংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে চীনের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তি খাত এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চীনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি ব্যয়কে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জিডিপি ব্যবধান বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চায়।

একই সঙ্গে, চীনকে জ্বালানি সংকটে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘পেট্রো-ইউয়ান’ উদ্যোগের অগ্রগতি ঠেকাতে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্যও অনুসরণ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।