জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ার তীব্র সংকটে রাশিয়া। সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত নানা উদ্যোগের কথা ভাবছে মস্কো। জনসংখ্যা বাড়াতে দেশটি যৌনতাবিষয়ক ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’ চালুর কথা ভাবছে। পাশাপাশি রাতে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়ায় জন্মহার নেমেছে ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, বাড়তি মৃত্যুহার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা এই অবস্থাকে দেশের জন্য ‘ক্যাটাস্ট্রোফিক’ বা ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা বাড়াতে একটি তথাকথিত ‘বিশেষ জনমিতিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তাব উঠেছে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর-এর বরাতে জানা গেছে, সরকার এমন একটি আবেদনের বিষয় পর্যালোচনা করছে, যেখানে রাত ১০টা থেকে ভোর ২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ও আলো বন্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে সহবাস ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং সন্তান জন্মদানে দম্পতি উৎসাহিত হয়।
এ ছাড়া আলোচনায় থাকা অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গৃহিণীদের জন্য মাসিক ভাতা, নবদম্পতিদের জন্য বিয়ের রাতের হোটেল খরচ সরকারি তহবিল থেকে বহন করা, এমনকি সম্পর্ক গড়তে উৎসাহ দিতে প্রথম ডেটের খরচও সরকারিভাবে দেওয়ার ভাবনা।
রাশিয়ার পরিসংখ্যান সংস্থা রসস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে জন্ম নিয়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ শিশু, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ হাজার কম। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ১০০ জনের, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ হাজার বেশি।
অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার কারণে জনসংখ্যা হ্রাস কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো দেশটির অভ্যন্তরে যেমন বিতর্ক তৈরি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।



