ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

একই হাসপাতালের দুই নার্সের শরীরে ভয়ঙ্কর নিপাহ ভাইরাস সন্দেহ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম
ছবি- সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আক্রান্ত সন্দেহভাজন দুজনই একটি হাসপাতালে কর্মরত নার্স বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নন্দিনী চক্রবর্তী জানান, কীভাবে ওই দুই নার্স নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা জানতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ বা সংস্পর্শ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারা যে হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এক বিবৃতিতে বলেন, গতকাল ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে দুইজন সন্দেহভাজন নিপাহ্ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে সঙ্গে সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেপি নাড্ডা জানান, বিষয়টি জানার পরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে।

এই দলে কলকাতার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড পাবলিক হাইজিন, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি, চেন্নাইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, কল্যাণীর এইমস হাসপাতালসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকার নিপাহ্ ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অনুসরণীয় প্রোটোকল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন জেপি নাড্ডা। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, ভারতে মূলত দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় সময়–সময় নিপাহ্ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ্ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং পরে মানুষে মানুষে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্বে প্রথম ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় এ ভাইরাস শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে নিপাহ্ ভাইরাস শনাক্ত হয় ২০০১ সালে।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)–এর গবেষণায় দেখা যায়, বাদুড়ের মাধ্যমে খেজুরের রসের সংস্পর্শে নিপাহ্ ভাইরাস ছড়ায়। খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়িতে বাদুড়ের মল পাওয়ার প্রমাণও মেলে।

নিপাহ্ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, কাশি, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ, খিঁচুনি ও মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।