ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘণ্টায় ২৫৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘হোরেশিও’

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের শুরুতেই ভয়ংকর রূপ নিল প্রকৃতি। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হোরেশিও’ এখন বছরের প্রথম পঞ্চম স্তরের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঝড়টির গতিবেগ ১০৪ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ঘণ্টায় ২৫৭ কিলোমিটারে পৌঁছেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে ঝড়ের এমন দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণেই এই দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পঞ্চম স্তরের ঘূর্ণিঝড় কী?

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, যখন কোনো ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে সর্বোচ্চ বা পঞ্চম স্তরের ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ধরা হয়। এই মাত্রার ঝড় ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও কিছুটা পড়বে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

এ ধরনের ঝড়ে দালানের ছাদ উড়ে যেতে পারে, বড় বড় গাছ উপড়ে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রবল জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকায় মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ভারতের ওপর প্রভাব কতটা?

বর্তমানে ‘হোরেশিও’ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে, যা ভারতীয় উপকূল থেকে অনেক দূরে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিরক্ষীয় বায়ুপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ গোলার্ধে সৃষ্টি হওয়া ঝড় উত্তর গোলার্ধে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ফলে সরাসরি ভারতের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই।

আরব সাগর বা বঙ্গোপসাগরেও এর কোনো পরোক্ষ প্রভাব পড়ার পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবুও সতর্কতা কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি হুমকি না থাকলেও এটি উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা। দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকায় ভারত বিশ্বের অন্যতম ঝড়প্রবণ দেশ। অতীতে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাট একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতাও দ্রুত বাড়ছে। ‘হোরেশিও’র এই অস্বাভাবিক শক্তিবৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।