ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:০৯ এএম
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি - সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভারত থেকে বাড়তি ডিজেল আমদানির জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ সরকার থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছে ভারত। বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের আগে ভারতের নিজস্ব মজুত, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত এই অঞ্চলের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় রপ্তানিকারক দেশ। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ নিজেদের প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও  শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ থেকেও একই ধরনের অনুরোধ পেয়েছে ভারত।

এর আগে বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমু সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থেকে ভারতকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আগামী চার মাসের জন্য বর্তমান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এই আমদানির পরিমাণ বাড়াতে চায়।

বৈঠক শেষে প্রণয় ভার্মা বলেছিলেন, বাংলাদেশের অনুরোধের চিঠি তিনি গ্রহণ করেছেন এবং তা দ্রুত ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে গত সোমবার থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানিকৃত ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ওই দিন বিকেলে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছায়। পাইপলাইনটির বার্ষিক পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে এর আংশিক ব্যবহার হচ্ছে।