পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগানো একটি গাড়ি ও চারটি মোটরসাইকেল ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।
বুধবার (০৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রাম এলাকার দোহাড়িয়ায় আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ১৭০ মিটার দূরে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ গাড়িতে করে দোহাড়িয়া এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে আসা একটি গাড়ি আচমকা সামনে এসে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে তার গতিরোধ করে। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা সামনে এসে গাড়ির জানালা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আততায়ীরা মোট চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যার মধ্যে তিনটি গুলি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে।
হামলার পর ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তদন্তে দেখা যায়, গাড়িটির নম্বরপ্লেট ছিল ভুয়া। শুধু তা-ই নয়, গাড়ির চেসিস নম্বরও ঘষে মুছে ফেলা হয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানান, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। হামলার আগে বাইকে থাকা দুর্বৃত্তরা চন্দ্রনাথের গাড়িকে অনুসরণ করছিল বলেও ধারণা পুলিশের।
ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) জানতে পেরেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে এলাকায় প্রবেশ করেছিল। বিভিন্ন স্থানে গাড়িটির ঘোরাঘুরি এবং চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে রেকি করার দৃশ্য সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। এতে পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি ছিল দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত অপারেশন।
পুলিশের দাবি, ভুয়া নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িটি মূলত উইলিয়াম জোসেফ নামে শিলিগুড়ির এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। তিনি পেশায় চা-শিল্পের কর্মী। তবে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তার গাড়িটি শিলিগুড়িতেই রয়েছে এবং সেটি বিক্রির জন্য তিনি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মাটিগাড়া থানায় পুলিশ গাড়িটির নথিপত্র ও মালিকানার বিস্তারিত যাচাই করেছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ রথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকে দুটি এবং পেটে একটি গুলির আঘাত ছিল। একটি গুলি তার হৃদ্পিণ্ডে আঘাত হানে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলাকারীদের অত্যন্ত পেশাদার মনে হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘চন্দ্রনাথের গাড়ি আমাকে অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পরই সেটি মাঝপথে থেমে যায়। এরপর মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির পাশে গিয়ে গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।’
পুলিশের ধারণা, হামলায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লক ৪৭এক্স ধরনের পিস্তল ব্যবহার করেছে, যা সাধারণ অপরাধীদের হাতে সচরাচর দেখা যায় না।
ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন