ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে মোদির হুশিয়ারি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশভাগের ইতিহাস, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি কংগ্রেস, বাম দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ তোলেন।

শনিবার (২০ জুন) হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা বাড়তে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভোটের স্বার্থে তোষণমূলক রাজনীতি করেছে, যার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গকে বহন করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসও একই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের ভূমিতে বাইরের রাজনৈতিক চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার মতে, এর ফলে রাজ্যের স্বকীয় চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাও স্মরণ করেন। সেই সময় বহু মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, দেশভাগের গভীর ক্ষত সত্ত্বেও বাংলা তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, বরং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্মরণেরও দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তৎকালীন নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, পূর্ববর্তী রাজ্য প্রশাসনের সময় প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেই কাজ এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, আগে পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুনকে এ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।