ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ ১১ মামলার আসামি

​​​​​​​ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা বুলবুল গ্রেপ্তার

কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোমছেদুল খান বুলবুলকে (৩৫) অপহরণ, ডাকাতি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব।

শুক্রবার রাতে রংপুর র‍্যাব-১৩ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার এবং পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 

শনিবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া মোমছেদুল খান বুলবুল কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি রকিবুল খানের ছেলে এবং একসময় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের স্বার্থে বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার চাপারহাট এলাকায় একটি অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী রবিউল ইসলাম (৩০) এবং ঘটনার প্রধান সাক্ষী মিস্টার আলী সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাপারহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে চাপারহাট-ভুল্ল্যারহাট সড়কের গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখান থেকে জোরপূর্বক তাদের অপহরণ করে বুলবুলের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাদী ও সাক্ষীর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে এবং প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত বুলবুল আত্মগোপনে ছিলেন।

ওসি আবু সিদ্দিক আরও জানান, পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুলবুলের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও লালমনিরহাট সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটির অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।