সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা বিএনপি তাকে গত মঙ্গলবার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শনিবার রাতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। পাশাপাশি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল শনিবার রাত আটটার দিকে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহাম্মদ মোশাররফ স্বাক্ষরিত অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আজ থেকে তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে।
যোগাযোগ করা হলে সাইদুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। আজ বিকেলে এ বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বেশির ভাগ লোক আমার পক্ষেই কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাইদুল ইসলামকে মাদক সেবন করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

