ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

অবৈধ ড্রেজারে উত্তোলনকৃত কাঁদাযুক্ত বালু দিয়ে এলজিইডির রাস্তা ভরাট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাশের জমি থেকে কাঁদাযুক্ত বালু উত্তোলন করে দুটি সড়ক নির্মাণের কাজ করছেন ঠিকাদাররা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাশাপাশি দুটি সড়কেই শুরুতেই অনিয়ম আর দুর্নীতি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বটতলী গ্রামে। রাস্তাগুলো হল বটতলী মাদ্রাসা থেকে জমাদার বাড়ির ও আবদুল হক বেপারি বাড়ি সামনে দিয়ে দত্তপাড়া টু মান্দারী বাজার সংযোগ সড়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৃথক দুইজন ঠিকাদার কাজগুলো পায়। আব্দুল হক বেপারী বাড়ির সামনের রাস্তাটি প্রায় ১ কিলোমিটার আর জমাদার বাড়ির রাস্তাটি ৯৫০ মিটার। দুটি রাস্তারই সংযুক্ত। এরমধ্যে জমাদার বাড়ির রাস্তার কাজ করছে ঠিকাদার আবুল বাশার প্রকাশে বসু কোম্পানি, আর অন্যটি স্থানীয় করিম, রিপনসহ কয়েকজন কিনে নিয়ে কাজ করছেন। তবে শুরুতেই তাদের কাজের ধরণ এক। পাশ্ববর্তী ফসলি জমিন ও পুকুর থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে তারা সড়কের জন্য কাটা বক্স কাদাযুক্ত বালু দিয়ে ভরাট করেছে। এতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী চরম বিপাকে রয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দুইজন ঠিকাদার জানায়, রাস্তাগুলো সম্পূর্ণ নতুন। বক্স কাটিং করে সেখানে বালু ডাম্পিং করতে হয়। তবে বালু হতে হবে ফ্রেশ। কোনভাবে কাদাযুক্ত বালু ভরাটের সুযোগ নেই। ঠিকাদাররা অধিক লাভের আশায় অসুদুপায় অবলম্বন করেছে। 

কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, বসু কোম্পানি ও করিমসহ কয়েকজন রাস্তা দুটির কাজ করছে। রাস্তা ভরাটের জন্য অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় আশপাশের বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে। তারা বালু কিনে এনে রাস্তা করবে, কিন্তু কাঁদাযুক্ত বালু দিয়ে রাস্তার কাজ করছে।এতে রাস্তাটিও টেকসই হবে কি না তা নিয়েও শংকা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, জমাদার বাড়ির সড়কটির কাজ পেয়েছেন আবুল বাশার বসু কোম্পানি। তার নির্দেশেই পাশের ক্ষেত আর পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করে সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঠিকাদার আবুল বাশার বসু কোম্পানি বলেন, অল্প কিছু বালু উত্তোলন করে রাস্তায় ফেলেছি। শুক্রবার দুপুরের পর ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফ্রেশ বালু ফেলা হবে বাকি রাস্তায়।

রিপন হাসান বলেন, আব্দুল হক বেপারি বাড়ির রাস্তাটি কাঁচা ছিল। একটি মাধ্যমে আমরা চেষ্টা চালিয়ে এ রাস্তা পাকাকরণে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ পাই। টেন্ডারের মাধ্যমে স্বপন নামে এক ঠিকাদার কাজটি পেয়েছে। পরে আমরা কাজটি তার কাছ থেকে কিনে নিই। কাদামাটি দিলে রাস্তাটি শক্তপোক্ত হবে। এজন্য আমাদের জমি থেকেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে কাদাবালু উত্তোলন করে রাস্তা ভরাট করছি। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়াররাও জানেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনাও দিয়েছেন। 

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন ও উপসহকারি প্রকৌশলী কেশব চন্দ্র দে'র মোবাইলফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।