নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে কোনো পুলিশি হয়রানি না থামলে দেশব্যাপী আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পৃথক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এ অভিযোগ করেন।
আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, তাতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত শিক্ষার্থীকে আটক, নজরদারি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককেও আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো মামলা না করে, সে বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে আইনি সুরক্ষা সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি ও নির্ধারিত সময়সীমার নথি মঙ্গলবারের মধ্যে সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। অন্যথায় দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন রাঙ্কা।
এদিকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস রেখেই সিজেপি আন্দোলন স্থগিত করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটক ও গ্রেপ্তারের খবর সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সৌরভ দাস জানান, সংগঠনের আইনি টিম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির জন্য কাজ শুরু করেছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকার, বিশেষ করে বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাধ্যমে নয়, বরং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারের আশ্বাস ভঙ্গ হলে তা শুধু সিজেপির সঙ্গে নয়, সংলাপের পথ বেছে নেওয়া লাখো তরুণের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর গত ২৫ জুলাই সিজেপি তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে। সংগঠনটির দাবি, সে সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, পুলিশের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল।
এদিকে বিষয়টি ভারতের সংসদেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন সাংসদ বিহারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব দাবি করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন