সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে আবুধাবি উদ্যোগটিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া প্রথম দিকের সরকারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয় জানায়, ইউএই ‘বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে প্রস্তুত’ এবং বৃহত্তর সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা ও সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে। এতে ওয়াশিংটনের নতুন সংঘাত-সমাধান প্রচেষ্টার সঙ্গে আবুধাবির আনুষ্ঠানিক সামঞ্জস্য প্রতিফলিত হয়েছে।
আবুধাবির এই সম্মতি এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। পরিকল্পনাটি প্রথমে গাজা সংঘাত দিয়ে শুরু করে পরে অন্যান্য সংঘাত মোকাবিলায় সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। কিছু নেতা অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তার দেশ ‘নিজেদের ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত’। আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সাপেক্ষে অটোয়া নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
আমন্ত্রণপত্রে ‘সনদ’ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিছু ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এটি জাতিসংঘের কাজকে ক্ষুণ্ন করতে পারে—যে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে সংঘাত অবসানে তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন না করার অভিযোগ করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বোর্ডটির আজীবন সভাপতি থাকবেন ট্রাম্প। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মেয়াদ হবে তিন বছর, তবে বোর্ডের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য প্রত্যেকে এক বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করলে তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে।
হোয়াইট হাউস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘এটি কেবল সেই অংশীদার দেশগুলোর জন্য স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব, যারা শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি গভীর অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’
হাঙ্গেরিও স্পষ্টভাবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তবে অধিকাংশ সরকার প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে এবং পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের কর্তৃত্বের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন