আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যু কার্যক্রম শুরু করছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করা এবং আগত হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতেই এবার আগাম সময়সূচিতে ভিসা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গত বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় শতভাগ সেবার চুক্তি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কায় অবস্থানের সব আবাসন চুক্তিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার হজযাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে আনুমানিক ৪৮৫টি তাঁবু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ৭৩টি দেশের হজ কার্যালয় তাদের প্রাথমিক চুক্তির কার্যক্রম শেষ করেছে।
এদিকে, জিও নিউজের খবরে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৯ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬০ হাজার হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
দেশটির ধর্মবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, হজ ২০২৫ উপলক্ষে পাকিস্তানি হজযাত্রীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিপ্রতি ফেরতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার রুপি। পাশাপাশি সারা দেশে ১৪৭টি কেন্দ্রে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের ৮ জুন থেকেই। ওই সময় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনার নথি পাঠায়। একই সঙ্গে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর তাঁবু সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও মূল সেবাসংক্রান্ত চুক্তি শুরু হয় ১৪৪৭ হিজরি সালের ১ রবিউল আউয়াল (২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে) থেকে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি হজ প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে মার্চের মধ্যেই কার্যক্রম শেষ হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ) থেকে হজযাত্রীদের প্রথম দল সৌদি আরবে পৌঁছাবে। নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করে অবকাঠামো, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
হজযাত্রীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পবিত্র হজ পালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হজ কার্যালয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়সূচি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

