মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে হাজারো ট্রানজিট যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেদ্দা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, কাতার, বাহরাইন, মাস্কাট ও কুয়েতের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে তারা সময় পার করছেন, তবে জানেন না ঠিক কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে একাধিক দেশ আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যস্ত বিমানপথে। ফলে বহু ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ট্রানজিট যাত্রীদের ওপর। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে এসব বিমানবন্দর ব্যবহার করা যাত্রীরা সংযোগ ফ্লাইট মিস করেছেন। অনেকেই ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ হোটেল সুবিধা পেলেও অধিকাংশ যাত্রীকে টার্মিনালেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দুবাই ও আবুধাবির বিমানবন্দরে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। এদিকে কাতার ও কুয়েত থেকেও একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ থেকেও মধ্যপ্রাচ্যগামী কয়েকটি ফ্লাইটের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে চলমান হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সকল ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আজ মধ্যপ্রাচ্যগামী যে সকল ফ্লাইট যথা দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ্, আবুধাবিসহ যে সকল গন্তব্যে যাত্রীগণ যাত্রা করছিলেন তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ ব্যতিরেকে এয়ারপোর্টে না আসেন। যোগাযোগের নাম্বার- ১৩৬৩৬।
বিমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় আকাশপথ বিশ্বে অন্যতম ব্যস্ত রুট। এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও কয়েক দিন ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে।
উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন যাত্রীরা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রধান প্রশ্ন—কবে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বিমান চলাচল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।



