ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা পড়তে পারে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের মানুষ। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য, প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধই থাকবে। এই জলপথকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।
সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটও গভীর হচ্ছে। ইরান ও লেবাননে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের ফলে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে ত্রাণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় ত্রাণ পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান এই সংঘাত একটি নতুন বৈশ্বিক মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক এই ধাক্কা কোটি কোটি মানুষের জন্য শুধু আর্থিক সংকট নয়, বরং জীবনযাত্রার মৌলিক নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


