২৯ মার্চ, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সংঘাত নিরসনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ রোববার এবং আগামীকাল সোমবার দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
১. বৈঠকের লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. বদর আবদেল আতি এই বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
মধ্যস্থতার ভূমিকা: পাকিস্তান বর্তমানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রধান সংযোগকারী বা ‘মিডিয়েটর’ হিসেবে কাজ করছে।
আলোচনার বিষয়: যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত যেন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করা।
পেছনের ঘটনা: প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন, যেখানে ইরান আলোচনার জন্য ‘পারস্পরিক বিশ্বাস’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
২. চলমান হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত: গত কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের হাফতগেল শহরে ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে বিশাল একটি এলাকা তীব্র পানি সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তেহরানে বোমাবর্ষণ: গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
৩. ইরান ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) অবস্থান
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি বেসামরিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা বন্ধ না হয়, তবে তারাও এ অঞ্চলজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে বাধ্য হবে।
৪. কেন এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে এই চার দেশের বৈঠকটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার একটি ‘প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ’। যদিও ওয়াশিংটন বা তেহরানের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে সরাসরি নেই, তবে পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।
পরবর্তী ধাপ: আগামীকাল সোমবার বৈঠকের শেষে একটি যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে আসন্ন দিনগুলোতে শান্তির সম্ভাবনা নাকি আরও বড় কোনো যুদ্ধ।


