হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় দূতাবাস।
বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ইরান ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতিও ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর বৈঠককে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ ধরনের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও কূটনীতির পক্ষে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রশংসনীয়।
এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগকেও সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের আংশিক উদ্ধৃতি প্রচারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দূতাবাস। তাদের মতে, এ ধরনের উপস্থাপন দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

