ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানের মধ্যেই ইরানে ‍‍‘শক্তিশালী‍‍’ হামলা যুক্তরাষ্ট্রে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৪:৫৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মঙ্গলবার সকালে ইরান হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়।

সংস্থাটি বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার কঠোর জবাব দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সর্বশেষ হামলা চালিয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ ছিল অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রও দেশটির জাহাজ ‘আল-রেকায়াত’-এ সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌচলাচলের নিরাপত্তার ওপর একটি অগ্রহণযোগ্য আঘাত। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে, জুন মাসে ইরানের তেল বিক্রির জন্য জারি করা সাধারণ লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই লাইসেন্সটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান কেবল তখনই সুবিধা পাবে, যখন তারা দায়িত্বশীল আচরণ করবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’

দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে ইরানের অর্থনীতি। এর মধ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় থেকে কার্যকর রয়েছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসে তেল রপ্তানি থেকে।

এর আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় তৃতীয় পক্ষের দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ পেয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুবিধা আবারও সীমিত হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।