রাজশাহী অঞ্চলে বালুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নির্মাণ খাত। ঠিকাদার, নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আবাসন উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বালুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ এবং আবাসন খাতের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধও রয়েছে।
নির্মাণ-সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ছয় মাস আগেও ৭৫০ সিএফটি ধারণক্ষমতার ১০ চাকার এক ট্রাক বালুর দাম ছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ বালু বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১৪ হাজার টাকায়।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বালুর মূল্যবৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্পগুলোর ব্যয় হিসাব ভেঙে পড়ছে। এতে ঠিকাদারদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডির চলমান উন্নয়নকাজেও এর প্রভাব পড়ছে।
মানহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ মাইনুল হোসেন চৌধুরী শান্ত জানান, প্রায় ১৬ কোটি টাকার দুটি সড়ক প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু বালুর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চার দিন আগে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে কার্যত একটি বড় বালুমহাল থেকে বালু সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার সালাউদ্দিন গাজীর দাবি, আগের ইজারাদারদের মজুত বালু এবং আরেকটি বড় বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ একই পক্ষের হাতে থাকায় তারা বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহীর (রেডা) সাধারণ সম্পাদক আ স ম মিজানুর রহমান কাজী বলেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নির্মাণ খাতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধি দল রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অভিজিত সরকার বলেন, বর্তমান বিধিমালায় খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। তবে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ব্যাবসায়িক অংশীদার রমজান আলী বলেন, ড্রেজিং, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চাহিদামতো বালু উত্তোলনও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

