ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

নেটফ্লিক্সের নতুন চ্যালেঞ্জ টিকটক ও ইউটিউব

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

একসময় টেলিভিশন দেখার ধরনই বদলে দিয়েছিল নেটফ্লিক্স। পুরো একটি মৌসুম (সিজন) একসঙ্গে প্রকাশ করে ‘বিঞ্জ-ওয়াচিং’ বা একটানা সিরিজ দেখার সংস্কৃতি জনপ্রিয় করে তোলে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখন সেই মডেলই নেটফ্লিক্সের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে নেটফ্লিক্সের অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, দর্শকদের একটি বড় অংশ জনপ্রিয় অনেক সিরিজের দ্বিতীয় সিজন পর্যন্ত আর ফিরছেন না। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেক সিরিজ মাঝপথে বাতিল হয়ে যায়, নতুন সিজন আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং অনেক কনটেন্ট অ্যালগরিদমের চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি হওয়ায় দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ শুধু কনটেন্ট নয়; বরং দর্শকদের বিনোদন গ্রহণের ধরনই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় নেটফ্লিক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল প্রচলিত টেলিভিশন। এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং বিভিন্ন মাইক্রোড্রামা অ্যাপ।

২০১৩ সালে ‘হাউস অব কার্ডস’-এর পুরো সিজন একদিনে প্রকাশ করে নেটফ্লিক্স নতুন যুগের সূচনা করেছিল। বিজ্ঞাপনবিহীন এবং নিজের সুবিধামতো সময় বেছে সিরিজ দেখার সুযোগ দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। সেই কৌশলই নেটফ্লিক্সকে প্রচলিত কেবল ও ব্রডকাস্ট টেলিভিশনের বিরুদ্ধে এগিয়ে দেয়।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক ঘণ্টা নেটফ্লিক্স দেখলেও টিকটকে ব্যয় করা সময় প্রায় একই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে দৈনিক ভিডিও দেখার সময়ের হিসাবে ইউটিউব প্রথমবারের মতো নেটফ্লিক্সকে ছাড়িয়ে গেছে।

এই পরিবর্তন বুঝেই নেটফ্লিক্স সম্প্রতি টিকটকের মতো স্ক্রলযোগ্য ভিডিও ফিড চালু করেছে। তবে এটি মূলত দর্শকদের নতুন কনটেন্ট খুঁজে পেতে সহায়তা করে, যেখানে টিকটক বা রিলসের মতো প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহারকারীরা সরাসরি বিনোদন উপভোগ করেন।

এদিকে ছোট ছোট পর্বে নির্মিত মাইক্রোড্রামার জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়ছে। ‘রিলশর্ট’ ও ‘ড্রামাবক্স’-এর মতো অ্যাপ ২০২৫ সালে শত শত কোটি ডলারের আয় করেছে। কয়েক মিনিটেই একটি গল্পের অংশ শেষ করা যায় বলে এসব প্ল্যাটফর্ম তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নেটফ্লিক্সকে কনটেন্ট প্রকাশের কৌশল নতুন করে ভাবতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি বহু সিজনের পরিবর্তে সীমিত পর্বের মিনিসিরিজ বা এক সিজনেই শেষ হওয়া গল্পের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। পাশাপাশি কিছু সিরিজ সাপ্তাহিকভাবে প্রকাশ করলে দর্শকদের আগ্রহ দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটফ্লিক্সের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলোÑ তারা কি এখনো প্রচলিত টেলিভিশনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, নাকি টিকটক ও ইউটিউবের মতো দ্রুতগতির ডিজিটাল বিনোদনের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলবে। সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটির আগামী দিনের পথচলা।