ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

দুই নক্ষত্রহীন চার বছর

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলেই ঠুস’ জীবন ও মৃত্যুর এই চিরন্তন সত্যকে মেনে নিয়ে ২০২২ সালের ৮ জুলাই একই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুরের জাদুকর আলম খান এবং রুপালি পর্দার চিরকালের স্নেহময়ী মা শর্মিলী আহমেদ। দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ চারটি বছর। আজ তাদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। চার বছর ধরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও অপূরণীয় রয়ে গেছে।

সুরের অসামান্য যাদুতে যিনি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, তিনি সুর সম্রাট আলম খান। ১৯৪৪ সালে সিরাজগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা। তার সুর করা ‘ওরে নীল দরিয়া’ (সারেং বউ), ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ (বড় ভালো লোক ছিল), ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’ কিংবা ‘চুমকি চলেছে একা পথে’র মতো গানগুলো আজ চার দশক পরও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

তার নিখুঁত সুরে কণ্ঠ দিয়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমিনসহ দেশের প্রথম সারির বহু কণ্ঠশিল্পী। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। দীর্ঘ এক দশক ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সুর সাধক।

অন্যদিকে, ঢাকার নাটক ও সিনেমার জগতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন শর্মিলী আহমেদ। দেশীয় অভিনয়াঙ্গনে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘আম্মা’। ১৯৪৭ সালে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাত্র চার বছর বয়স থেকে মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ইতিহাসের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘দম্পতি’-তে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

২০২২ সালের সেই দিনটি দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর। সকালে প্রথমে আসে শর্মিলী আহমেদের মৃত্যুর খবর, আর তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে জানা যায় আলম খানের চিরবিদায়ের সংবাদ। একই দিনে দুই প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো দেশকে।

আজ চার বছর পর চলচ্চিত্রে কিংবা টেলিভিশনে নতুন গান বা নাটক তৈরিতে তাদের অনুপস্থিতি প্রতি মুহূর্তে অনুভুত হয়। তারা সশরীরে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আলম খানের অমর সুরের মূর্ছনায় আর শর্মিলী আহমেদের মায়াবী অভিনয়ের স্মৃতির মাঝে তারা বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।