ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

হাসপাতালে এফ আই মানিক

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

সিনেমার পর্দায় কত শত আনন্দের গল্প বুনেছেন তিনি। খাদের কিনারে চলে যাওয়া ঢাকাই সিনেমাকে টেনে তুলেছিলেন খাদের ওপর। শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের মতো তারকাদের রাজকীয় জুটির জন্ম হয়েছিল যার হাত ধরে, সেই বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ আই মানিক এখন হাসপাতালের বিছানায় ব্যথায় ছটফট করছেন। গত সোমবার রাতে এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা ম্লান করে দিয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরচেনা হাসি।

জানা গেছে, সোমবার রাতে নিকেতনে নিজ বাসায় ফিরছিলেন এফ আই মানিক। বেগুনবাড়ি মোড় পার হয়ে হাতিরঝিল গোলচক্কর থেকে নিকেতন সড়কে প্রবেশের সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই চলচ্চিত্রের সহকর্মীরা ও তার ঘনিষ্ঠ অনুরাগী হৃদয় খান বাদশাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। রাতেই তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘এফ আই মানিক ভাই আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কোথাও ভেঙেছে কিনা এক্সরে রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।’

যখন ঢাকাই চলচ্চিত্র অশ্লীলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই সুস্থ ধারার পারিবারিক গল্পের সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এফ আই মানিক। দর্শককে হলমুখী করার এক জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তার। ২০০৬ সালের দিকে তার পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমাটি ঢালিউডের ইতিহাস বদলে দেয়। এই একটি সিনেমাই শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে রাতারাতি সুপারস্টারে পরিণত করে।

এফ আই মানিকের দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢালিউডের শিল্পী, কলাকুশলী এবং ভক্তদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের কাছে হাতিরঝিলের মতো জায়গায় গভীর রাতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং এই দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী চালককে দ্রুত সনাক্তকরণের দাবি জানিয়েছেন।

আপাতত হাসপাতালের সাদা চাদরে মোড়ানো বিছানায় চলছে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অধিনায়কের জীবনের লড়াই। সুস্থ হয়ে আবারও চিরচেনা লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরে আসবেন এফ আই মানিকÍএমনটাই প্রত্যাশা পুরো দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।

প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্রজগতে নব্বই দশক থেকে দুই হাজার দশকের শুরুর দিকে পরিচালক এফ আই মানিক একের পর এক ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্বপ্নের বাসর’, ‘কোটি টাকার কাবিন’, ‘ফুল নেব না অশ্রু নেব’, ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘পিতার আসন’ প্রভূতি।