রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তরপর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি নয়, বরং শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছে সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করছে যে, শুধু যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে তাদেরই বিচার হবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ সর্বমোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংসদে টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮ দেওয়ানি ও ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি ফৌজদারি মামলাসহ সর্বমোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালে আপীল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। দেশের অধস্তন আদালতসমূহে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি। গত এক বছরে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এরই মধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে; পাশাপাশি নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগসহ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত, ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। নবপ্রতিষ্ঠিত আদালতের বিপরীতে বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

