ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পাক-আফগান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৫৫ সেনা নিহত

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:১৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ভয়াবহ গুলিবিনিময়ের ঘটনায় কমপক্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে  তালেবাবেনর। তবে পাল্টা দাবি করে পাকিস্তানও জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাঘাতে ৪৪ জন তালেবান সেনা নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান সদস্যদের গুলিবর্ষণের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জবাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ নামে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করে।

পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, তালেবান বাহিনীর পরিচালিত একটি কোয়াডকপ্টার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনোটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানানো হয়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সেনারা হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা গুলি চালায়। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে তালেবান অবস্থানে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। চিত্রাল সেক্টরে একটি তালেবান চৌকি ধ্বংসের কথাও জানানো হয়েছে।

বাজাউর জেলার নওগাই, খাইবারের তিরাহ, মোহম্মদ জেলা ও আরান্দু খাত এলাকাতেও পাল্টা অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া বাজাউরে দুটি আফগান পোস্ট ধ্বংস এবং তীব্র হামলার মুখে তালেবান সদস্যদের টর্কহাম ক্রসিংয়ের দিকে পিছু হটার কথাও জানিয়েছে পাকিস্তানি সূত্র।

সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাজাউরের লাগরি এলাকায় মর্টার শেলের আঘাতে পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী। আহতদের খার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান সরকার বলেছে, পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা ‘প্রতিশোধমূলক প্রত্যাঘাত’ শুরু করেছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, গতকাল বৃহস্পতিবার কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

তালেবানের দাবি, পাকিস্তানের ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপরই কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং কয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে বলে দাবি করে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সীমান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে উভয় দেশের সরকারি সূত্রের বক্তব্যের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।