বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক পর্যায়ে তীব্র সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানান, পুরো অঞ্চল বর্তমানে সংঘাতের কবলে পড়েছে এবং পাকিস্তান পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দেশের পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
এ ছাড়া তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং উপসাগরীয় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর পাল্টা হামলার সমালোচনা করেন।
ব্যয় সংকোচনে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ
জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ আগামী দুই মাসের জন্য ৫০% কমানো হবে। সরকারি দপ্তরের ৬০% গাড়ি ব্যবহার বন্ধ থাকবে।
বেতন কাটছাঁট: ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দুই মাস কোনো বেতন পাবেন না। সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫% কমানো হয়েছে।
ব্যয় সংকোচন: সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০% কমানো হবে।
বিদেশ সফর: মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে। ভার্চুয়াল মিটিং ও টেলিকনফারেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্যান্য ব্যবস্থা: ৩ লাখ রুপি বা তার বেশি মাসিক বেতনভোগী ২০তম গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা হবে। সরকারি নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি বন্ধ থাকবে। সরকারি সেমিনার ও অনুষ্ঠানের জন্য কেবল সরকারি ভেন্যু ব্যবহার করতে হবে।
জনবল ব্যবস্থাপনা: জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০% কর্মী বাসা থেকে কাজ করবেন। সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে, তবে ব্যাংক এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
শিক্ষা খাত: স্কুলগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, এই পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সাহায্য করবে এবং জনগণকে সাশ্রয়ী জীবনধারার সঙ্গে মানিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন