ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

দুই ভাইকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তান, লাশ হয়ে ফিরে আসে বেলুচিস্তানে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বেলুচিস্তানের বালিচা ক্রসের কাছে গত ১০ জুলাই ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি)-এর হেফাজতে নেওয়ার পর দুই ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন- ২২ বছর বয়সী ইমাম ও ২০ বছর বয়সী মুহাম্মদ উমর। তারা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কেচ জেলার মান্ড এলাকার শাবান বাজারের বাসিন্দা ছিলেন।

পরিবারের দাবি, নিহত দুই ভাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি ফেরার পথে তাদের আটক করা হয়। মৃত্যুর আগে তাদের কাউকেই আদালতে হাজির করা হয়নি, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, ইমাম ও মুহাম্মদ উমরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গুলির আঘাতের পাশাপাশি তাদের উভয়ের শরীরে নির্যাতনের গুরুতর চিহ্নও ছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলুচিস্তানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, দুই ভাইয়ের মৃত্যু ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিখোঁজ ও বেআইনি হত্যার অভিযোগের ধারাবাহিকতার অংশ।

তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি) এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, এই ঘটনা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের পাশাপাশি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-এর ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

বিওয়াইসি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— ইমাম ও মুহাম্মদ উমরের মৃত্যুর ঘটনা এবং বেলুচিস্তানে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগগুলো নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

উল্লেখ্য, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) পাকিস্তানের একটি আধাসামরিক বাহিনী। এটি মূলত দেশটির পশ্চিম সীমান্ত, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে।