× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম

ভেনেজুয়েলার তৃতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার তাড়া করছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম

ভেনেজুয়েলার ভূতুড়ে জাহাজ তাড়া করছে মার্কিন কোস্টগার্ড। ছবি- সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার ভূতুড়ে জাহাজ তাড়া করছে মার্কিন কোস্টগার্ড। ছবি- সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজকে ধাওয়া করছে মার্কিন কোস্টগার্ড। যদি এ অভিযান সফল হয়, তবে এ সপ্তাহের মধ্যে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় অভিযান। 

রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টায় যুক্ত ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা ভূতুড়ে জাহাজ বহরের একটির পিছু নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছে এবং এটি বিচারিক জব্দ আদেশের আওতায় রয়েছে।’ আরেক কর্মকর্তা বলেন, ট্যাঙ্কারটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটি আটক করা হয়নি।

এমন অভিযান বিভিন্নভাবে পরিচালিত হতে পারে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে সন্দেহভাজন জাহাজের খুব কাছে নৌ বা আকাশযান মোতায়েনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি আরও জানান, পিছু নেওয়া জাহাজটির অবস্থান ও নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড এবং মার্কিন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটির নাম ‘বেলা ওয়ান’। বিশাল এই তেলবাহী জাহাজটিকে গত বছর মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে।

ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স ডটকম জানায়, রোববার ভেনেজুয়েলার দিকে এগোতে থাকা বেলা ওয়ান খালি ছিল। ২০২১ সালে এই ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলার তেল চীনে পরিবহন করেছিল বলে রাষ্ট্রায়ত্ত ভেনেজুয়েলা তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া এটি পূর্বে ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করেছে বলে নজরদারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সব তেলবাহী জাহাজের ওপর ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ ঘোষণা করেন। যারা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হয়, সেসব জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। ট্রাম্পের চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় দুই ডজনের বেশি সামরিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন শতাধিক লোক।

গত ১০ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট প্রথম তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র, সেটি ছিল ‘দ্য স্কিপার’। রোববার ট্যাঙ্কারটি হিউস্টনের কাছে গ্যালভেস্টন অফশোর লাইটারিং এলাকায় পৌঁছেছে। বিশাল এসব তেল ট্যাঙ্কার হিউস্টন জাহাজ চলাচল পথ অতিক্রম করতে পারে না। কারণ পথটি গভীর নয়, তাই সাধারণত এগুলো ছোট ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তর করে।

হোয়াইট হাউস অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট বলেন, ‘জব্দ হওয়া প্রথম দুটি ট্যাঙ্কার অবৈধ কালোবাজারে পরিচালিত ছিল এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোতে তেল সরবরাহ করছিল।’

তিনি এক সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘এ ধরনের জাহাজ মার্কিন বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হবে না, কারণ এগুলোর সংখ্যা খুবই কম এবং এগুলো কালোবাজারি জাহাজ।’

এদিকে, সোমবার এশিয়ান বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৪২ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ, যা ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬০.৮৯ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৮৯ ডলারে।

ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, জাহাজ জব্দের কার্যক্রমকে ব্যবসায়ীরা উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। কারণ শনিবার আটক হওয়া ট্যাঙ্কারটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল না।

এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বুধবার ঘোষণা করেন যে দেশটির তেল বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নজরদারি ও অভিযান জাহাজ পরিবহনকে ঝুঁকিপূর্ণ করার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাবে ভেনেজুয়েলার রপ্তানি কমে গেলে এবং তেল সংরক্ষণাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে গেলে দেশটি উৎপাদনও কমাতেও বাধ্য হবে বলে মনে হচ্ছে। 

এনার্জি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো মোনালদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নজরদারি ভেনেজুয়েলার তেল আয়ে ধস নামাতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। তিনি জানান, রপ্তানি হ্রাস পেলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের হার ব্যাপকভাবে সংকুচিত হতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!