যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন বলে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লেবার পার্টির নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিং প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে বার্নহ্যামকে সমর্থন জানানোর পর তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম একটি উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পাওয়ার পর সোমবার সকালে কিয়ার স্টারমার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই জয় বার্নহ্যামকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। জনমত জরিপে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং নিজ দলের এমপিদের মধ্যে সমর্থন হ্রাসের চাপের মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
স্টারমার জানান, লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারবেন। তবে ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তরের জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে বড় পরিবর্তন আসে যখন সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য ওয়েস স্ট্রিটিং বার্নহ্যামকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। তাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলে এখন পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা ছাড়াই বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
স্ট্রিটিং বলেন, ‘আমরা গ্রীষ্মজুড়ে ছোটখাটো পার্থক্যগুলোকে বড় করে তুলতে পারি, অথবা অ্যান্ডিকে সেই পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারি যা আমাদের দল ও দেশের প্রয়োজন। আমি দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিচ্ছি এবং আশা করি অন্যরাও অ্যান্ডিকে সমর্থন করবেন।’
স্টারমারের বিদায়
উত্তর ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকেকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বার্নহ্যাম রাজনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছান। এই জয় স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০২৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্টারমারের লেবার সরকার নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের কাছে বড় ধাক্কা, একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক এবং দলের ভেতরের চাপের কারণে সরকারকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো—পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি? আমি আমার সংসদীয় দলের মতামত শুনেছি এবং তা গ্রহণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা আমার দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে নিয়েছি। এ কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
স্টারমারের উত্তরাধিকার
বিরোধী দল থেকে ক্ষমতায় আসার পথে স্টারমারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে বড় নির্বাচনী পরাজয়ের পর তিনি লেবার পার্টির দায়িত্ব নেন এবং এক সংসদীয় মেয়াদের মধ্যেই দলকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন একটি লেবার পার্টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যা ‘রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিল।’
তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে দলটি পরিবর্তিত হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে স্টারমার তার স্ত্রী ভিক এবং সন্তানদের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর তিনি পরিবারকে আরও সময় দিতে চান।
ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের বক্তব্যের সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড্যারেন জোন্স এবং অ্যাটর্নি জেনারেল রিচার্ড হার্মার।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন